লবঙ্গ
লবঙ্গ গাছের ফুলের কুঁড়িকে শুকিয়ে লবঙ্গ মসলাটি তৈরি করা হয়। অর্থাৎ চিরসবুজ লবঙ্গগাছের ফুলের কুঁড়িকেই বলে লবঙ্গ বা লং। লবঙ্গের ভেতর রয়েছে ‘ইউজেনল’ নামের একটি যৌগ, যা এর সুগন্ধের মূল কারণ। এটির ৭২ থেকে ৯০ শতাংশই ইউজেনলে ভরপুর। যৌগটি জীবাণু ও ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এতে আরও আছে ক্যারিওফিলিন নামের আরেকটি যৌগ যা একধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান।
লবঙ্গের আরো তথ্য:
জনপ্রিয় মসলা লবঙ্গ শুধু খাবারের স্বাদ, ঘ্রাণই বৃদ্ধি করে না, পচন নিরোধক, ক্ষতিকর অণুজীবনাশক এবং অনেকটা অবশকারী গুণাবলির কারণে এর নামডাক আছে। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে সিরিয়া, চীন, রোম, আফ্রিকাতে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে আধুনিক সময়ে সবার প্রথমে ইন্দোনেশিয়ার মালুকু দ্বীপপুঞ্জে এটি পাওয়া যায়। এরপর এখান থেকে ডাচ্ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে লবঙ্গ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
পুষ্টি উপাদান
১ চামচ গুঁড়া লবঙ্গতে আছে ৬ ক্যালরি, ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম ফাইবার, দৈনন্দিন চাহিদার ৩ শতাংশ ভিটামিন সি, ২ শতাংশ ভিটামিন কে এবং ৫৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ। এতে কিছু পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ই–ও আছে। এ ছাড়া আছে সামান্য ক্যারোটিন পিগম্যান্ট, যা ভিটামিন এ–তে পরিণত হয়।
ঔষধি গুন:
দাঁতের নানা সমস্যার, সমাধানে খাদ্যে বিষক্রিয়া সারাতে, ক্যানসার প্রতিরোধে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়, আলসার নিরাময়ে।
কী কী ভাবে খাওয়া যায়?
• সর্দি লাগলে লবঙ্গ দেওয়া চা হামেশাই খাওয়া হয়। গার্গল করার সময়ে জলে লবঙ্গ দিলে, ওর ঝাঁঝে অনেকটা উপশম হয়।
• গরম জলে পাঁচ মিনিট লবঙ্গ ফুটিয়েও সেই জল পান করা যায়।
• কাঁচা লবঙ্গ চিবিয়ে বা নুন মাখিয়ে খাওয়া যায়।
• মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
No comments:
Post a Comment